ঢাকা: দুপুর ১:০০ মিনিট, মঙ্গলবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ,শরৎকাল, ২১শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি
জাতীয়

ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

anbnewsagencydotcom

ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের জন্য প্রণব দাদার বুকে ছিল গভীর ভালোবাসা। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার যে অবদান, আমরা তা কোনোদিন ভুলব না।”

ভারতের এই সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রণব মুখার্জি লিগ্যাসি ফাউন্ডেশনের (পিএমএলএফ) আয়োজনে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে দেওয়া স্মারক বক্তৃতায় এ কথা বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা ছাড়াও ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ধারণ করা ভিডিও বক্তৃতাও অনুষ্ঠানে দেখানো হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, “প্রণব দাদাকে ছাড়া একটি বছর অতিবাহিত করা কঠিন ছিল। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন সত্যিকারের বন্ধু, ভারতীয় উপমহাদেশের একজন মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মৃত্যুবার্ষিকীতে এই মহান ব্যক্তিত্বের স্মৃতির প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।” ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রণব মুখোপাধ্যায় একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সব মহলেই ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্র। পাঁচ দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় তার কেটেছে ভারতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে।

গতবছর বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে তার শরীরে করোণাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এক পর্যায়ে তিনি চলে যান গভীর কোমায়। ২০২০ সালের ৩১ অগাস্ট তার মৃত্যু হয়। একাত্তরে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার সদস্য থাকাকালে তখনকার কংগ্রেস নেতা প্রণব যেমন মুক্তিকামী বাঙালির পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনি তিনি বাংলাদেশের বন্ধু ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েও। তার স্ত্রী রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী শুভ্রা মুখোপাধ্যায় ছিলেন বাংলাদেশের নড়াইলের মেয়ে। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধু হিসেবে ২০১৩ সালের ৪ মার্চ সরকার প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননায়’ ভূষিত করে, যিনি নিজের দেশে সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ভারতরত্নে ভূষিত হয়েছিলেন ২০১৯ সালে।

শেখ হাসিনা বলেন, “যে সমর্থন বরাবর তিনি দিয়ে গেছেন, এ দেশের মানুষ তা কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করবে। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিও প্রণব মুখোপাধ্যায়ের গভীর শ্রদ্ধাবোধ ছিল। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অসাধারণ প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য তিনি সুপরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, ভারত সরকারের অর্থ, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর তিনি পরিচালনা করেছেন দক্ষতার সঙ্গে। “তার অসাধারণ গুণাবলীই তাকে শেষ পর্যন্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি করেছিল।”

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর নির্বাসিত জীবনে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। সে সময়ও বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। সেসব দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে বলেন, “প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং তার স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাদের সঙ্গে অনেক স্মৃতি রয়েছে আমার।

“শুভ্রা মুখার্জী ছিলেন বাংলাদেশের মেয়ে। আমার জন্য, আমার বোন রেহানার জন্য তাদের ছিল গভীর স্নেহ। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট আমাদের বাবা-মা এবং পরিবারের আরও ১৮ জন নিহত হওয়ার পর ভারতে থাকার কঠিন দিনগুলোতে তারা আমাদের পাশে থেকেছেন অভিভাবকের মত, পরিবারের বন্ধুর মত।” শেখ হাসিনা বলেন, “তার (প্রণব মুখোপাধ্যায়) প্রয়াণ ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য, আমার পরিবারের জন্য এক বিরাট ক্ষতি। তার কথা, তার স্নেহের কথা আমার সবসময় মনে পড়বে।” ২০১৫ সালের ১৮ অগাস্ট প্রণব রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় মারা যান শুভ্রা। দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে এ দম্পতির।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ২০১৩ সালে সস্ত্রীক বাংলাদেশে এসেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। সে সময় নড়াইলের ভদ্রবিলায় শ্বশুরালয়েও ঘুরে গিয়েছিলেন। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে এই স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার আমন্ত্রণ জানানোয় ‘প্রণব মুখার্জি লিগ্যাসি ফাউন্ডেশন’, বিশেষ করে তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “শ্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু ভারতীয় উপমহাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তিনি আমাদের এ অঞ্চলের আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। আর আমরা তাকে স্মরণ করে যাব বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন আর ভালোবাসার জন্য।”

Hur Agency

এমন আরো সংবাদ

Back to top button