ঢাকা: রাত ১১:৩১ মিনিট, শনিবার, ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ,বর্ষাকাল, ২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি
খেলাধুলা

ইউরো ২০২০ : ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ইতালি

এএনবি নিউজএজেন্সী ডটকম

ইউরো ২০২০ : ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ইতালি। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হলো ইতালি। লুক শয়ের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা টানেন লিওনার্দো বোনুচ্চি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়ও ১-১ গোলে শেষ হয়। টাইব্রেকারের গল্পটা অনেকটাই নির্ধারিত সময়ের লড়াইয়ের মতো। ইংল্যান্ড প্রথম দুই শটেই গোল পেল। বিপরীতে ইতালির দ্বিতীয় শট নিতে আসা আন্দ্রেয়া বেলোত্তির প্রচেষ্টা রুখে দেন জর্ডান পিকফোর্ড।

কিন্তু এরপর ইংল্যান্ড লক্ষ্যে পাঠাতে পারল না আর একটিও। ইতালির তিন ও চার নম্বর শটে জাল খুঁজে নেন বোনুচ্চি ও ফেদেরিকো বের্নারদেস্কি। জর্জিনিয়োর নেওয়া তাদের পঞ্চম শটও ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন পিকফোর্ড। তারপরও নায়ক হতে পারেননি তিনি। টাইব্রেকারের কথা ভেবে মার্কাস র‌্যাশফোর্ড ও জ্যাডন স্যানচোকে শেষ মুহূর্তে বদলি নামিয়েছিলেন ইংলিশ কোচ। দুজনেই হতাশ করেছেন। র‌্যাশফোর্ড মারেন পোস্টে আর স্যানচো ও বুকায়ো সাকার শট রুখে দিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন দোন্নারুম্মা। পুরো ম্যাচে ৬৬ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশে ১৯টি শট নেয় ইতালি, যার ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে অধিকাংশ সময় খোলসবন্দী হয়ে থাকা ইংল্যান্ড শট নেয় মাত্র ৬টি, যার দুটি লক্ষ্যে।

ম্যাচ শুরুর আগের সংক্ষিপ্ত বিদায়ী অনুষ্ঠানে দেখানো হয় আগের সব আসরের চ্যাম্পিয়নদের শিরোপা উল্লাস। এরপর ট্রফি নিয়ে আসেন গত আসরের ফাইনালে পর্তুগালের জয়সূচক গোলদাতা এদের। শুরু হয় নতুন চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণী লড়াই। ইংল্যান্ডের জন্য এর চেয়ে ভালো শুরু বুঝি আর হতে পারত না। সতীর্থের পাস ধরে কেইন কিছুটা এগিয়ে মাঝমাঠ থেকে দারুণ থ্রু বলে ডান দিকে খুঁজে নিলেন কিরান ট্রিপিয়ারকে। আতলেতিকো মাদ্রিদের এই রাইট-ব্যাক রক্ষণের ওপর দিয়ে ক্রস বাড়ালেন বাঁদিকে। ফাঁকায় বল পেয়ে জোরালো হাফ-ভলিতে পোস্ট ঘেঁষে গোলটি করেন লেফট-ব্যাক লুক শ। ম্যাচের ঘড়িতে তখন মাত্রই ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড! উল্লাসে ফেটে পড়ল ওয়েম্বলির গ্যালারি।   ইউরোর ইতিহাসে ফাইনালে এটাই সবচেয়ে দ্রুততম গোল। আর জাতীয় দলের হয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার শয়ের প্রথম কিছু বুঝে ওঠার আগেই গোল খেয়ে যেন স্তম্ভিত হয়ে পড়ে ইতালি। গুছিয়ে উঠে বল দখলে রেখে আক্রমণের চেষ্টা করতে থাকে তারা। কিন্তু ইংলিশদের জমাট রক্ষণে ডি-বক্সের বাইরে অধিকাংশ ভেস্তে যাচ্ছিল। ৩৫তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য শট নিতে পারে রেকর্ড ৩৩ ম্যাচের অপরাজিত পথচলায় ৮৬ গোল করা ইতালি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফেদেরিকো চিয়েসার নিচু শটটি পোস্টের একটু বাইরে দিয়ে যায়। বিরতির আগে আরেকটি হাফ-চান্স পায় তারা; এবার চিরো ইম্মোবিলের শট ব্লক করেন জন স্টোনস। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে চাপ ধরে রাখলেও নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না ইতালি। ৬২তম মিনিটে প্রথমবার প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের পরীক্ষা নেয় তারা। তিন ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে চিয়েসার নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড। পাঁচ মিনিট পরই স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে দেয় আজ্জুরিরা। কর্নারে মার্কো ভেরাত্তির হেড পিকফোর্ড কোনোমতে ঠেকালেও বল হাতে রাখতে পারেননি, পোস্টে লেগে ফেরা বল গোলমুখ থেকে ছোট্ট টোকায় জালে পাঠান বোনুচ্চি। ইউরোর ফাইনালে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করলেন বোনুচ্চি (৩৪ বছর ৭১ দিন)।

গোল হজম করার পর খোলস ছেড়ে বের হয় ইংল্যান্ড। যদিও নির্ধারিত ৯০ মিনিটের বাকি সময়ে কোনো শটই নিতে পারেনি তারা। অতিরিক্ত সময়েও একইভাবে চলতে থাকে। ১০৩ মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার সুযোগ নষ্ট করেন বের্নারদেস্কি। বাঁ দিক থেকে ইনসিনিয়ের দারুণ ক্রসে পা ছোঁয়াতেই পারেননি বদলি নামা ফরোয়ার্ড। চার মিনিট পর বের্নারদেস্কির ফ্রি কিক দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ঠেকিয়ে ম্যাচ টাইব্রেকারে নেন পিকফোর্ড। সেখানেও দারুণ পারফরম্যান্স দেখালেন তিনি, তারপরও হাসতে পারলেন না। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর বড় উৎসব করতে পারল না ইংল্যান্ডও। টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজেয় পথচলায় ১৯৬৮ সালের পর আবারও ইউরোপ সেরার স্বাদ পেল ইতালি। মানচিনির ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া এক দল, যেন ওরা হারতে জানে না।

Hur Agency

এমন আরো সংবাদ

হট নিউজটি পড়বেন?
Close
Back to top button