ঢাকা: রাত ১২:১০ মিনিট, রবিবার, ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ,বর্ষাকাল, ২২শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি
আন্তর্জাতিক

হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িসের হত্যাকারীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ অব্যাহত

এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকমহাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িসের হত্যাকারীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ অব্যাহত। বুধবার রাতে টেলিভিশনে এক মন্তব্যে পুলিশের মহাপরিচালক লিওন চার্লস জানিয়েছেন, পুলিশ চার ‘ভাড়াটে সেনা’ হত্যা করেছে এবং দুই জনকে আটক করেছে। তাদের সবাইকে আটক অথবা হত্যা না করা পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী বিশ্রাম নেবে না।

চার্লস বলেন, “তারা অপরাধস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর পথেই তাদের ঘেরাও করে ফেলেছি আমরা, তারপর থেকে তাদের সঙ্গে লড়াই করে চলেছি। তাদের হত্যা অথবা গ্রেপ্তার করা হবে।” বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার রাতে অজ্ঞাত হামলাকারীরা বাসভবনে ঢুকে প্রেসিডেন্ট ময়িসকে হত্যা করে, এতে ইতোমধ্যেই দরিদ্র হয়ে পড়া সহিংসতা কবলিত দেশটি গভীর বিশৃঙ্খলায় ডুবে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৫৩ বছর বয়সী সাবেক ব্যবসায়ী ময়িস ২০১৭ সালে হাইতির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। স্থানীয় সময় রাত ১টায় সশস্ত্র হামলাকারীরা রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের পাহাড়ের ওপর অবস্থিত বাড়িতে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্টকে হত্যা করে ও তার স্ত্রী মার্টিনকে গুরুতর আহত করে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত হাইতির রাষ্ট্রদূত এডমন্ড রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ওই বন্দুকধারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) এজেন্টের ছদ্মবেশ ধারণ করে রাতের আঁধারে ময়িসের কড়া পাহারাধীন বাসস্থানে প্রবেশ করে, এভাবেই সম্ভবত তারা বাড়িটিতে প্রবেশ করতে পেরেছিল।

দুই আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র হাইতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অপরাধী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও বাড়তে থাকা মানবিক সংকটের মধ্যেই বেপরোয়া এ হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। হামলাকারীদের ‘বিদেশি ভাড়াটে সেনা’ অভিহিত করে তারা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত খুনি বলে জানিয়েছেন এডমন্ড। এসব হামলাকারীদের ধরার সুবিধার্থে দেশজুড়ে দুই সপ্তাহের জরুরি অবস্থা জারি করেছে হাইতি সরকার।

হাইতির প্রতিবেশী লাতিন আমেরিকার দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্র এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছে। দেশটির নেতৃত্ব গ্রহণ করা অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ক্লদ জোসেফ জানিয়েছেন, বন্দুকধারীরা ইংরেজি ও স্পেনীয় ভাষায় কথা বলছিল। হাইতির অধিকাংশ মানুষ ফ্রেঞ্চ ও হাইতীয় ক্রিওল ভাষায় কথা বলেন।

পুলিশের মহাপরিচালক চার্লসকে পাশে নিয়ে টেলিভিশনে জোসেফ বলেন, “সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে। এই বর্বরোচিত কাজটির জন্য অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।”

আহত ফার্স্ট লেডিকে চিকিৎসার জন্য আকাশপথে ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। হাইতির জনসংখ্যা প্রায় এক কোটি ১০ লাখ। ১৯৮৬ সালে ডুভেলিয়ারের রাজতান্ত্রিক ধরনের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অবসানের পর থেকেই দেশটিতে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। দেশটিতে বেশ কয়েকবার অভ্যুত্থান ও বিদেশি হস্তক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে।

Hur Agency

এমন আরো সংবাদ

Back to top button