ঢাকা: সকাল ৬:২৫ মিনিট, রবিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ,গ্রীষ্মকাল, ৬ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি
দেশজুড়ে

দেশের ৩১ জেলায় সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ

এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগী, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। সংক্রমণ বৃদ্ধির হার বিবেচনায় মৌলভীবাজার জেলা রয়েছে শীর্ষে। দ্বিতীয় অবস্থানে মুন্সীগঞ্জ, তৃতীয় চট্টগ্রাম, চতুর্থ ঢাকা ও পঞ্চম অবস্থায় রয়েছে সিলেট। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৩১ জেলায় কোভিড-১৯-এর উচ্চ সংক্রমণ রয়েছে। সারা দেশে করোনা সংক্রমণের পরীক্ষার ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।

জেলাগুলো যথাক্রমে হলো—১. মৌলভীবাজার, ২. মুন্সীগঞ্জ, ৩. চট্টগ্রাম, ৪. ঢাকা, ৫. সিলেট, ৬. নরসিংদী, ৭. খুলনা, ৮. নারায়ণগঞ্জ, ৯. রাজবাড়ী, ১০. ফেনী, ১১. নোয়াখালী, ১২. চাঁদপুর, ১৩. শরীয়তপুর, ১৪. লক্ষ্মীপুর, ১৫. কুমিল্লা, ১৬. বরিশাল, ১৭. রাজশাহী, ১৮. বগুড়া, ১৯, নড়াইল, ২০. নীলফামারী, ২১. গাজীপুর, ২২. ফরিদপুর, ২৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২৪. যশোর, ২৫. মাদারীপুর, ২৬. নওগাঁ, ২৭. রংপুর, ২৮. কিশোরগঞ্জ, ২৯. নাটোর, ৩০. টাঙ্গাইল ও ৩১. কক্সবাজার।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে পাঁচ হাজার ৩৫৮ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ছয় লাখ ১১ হাজার ২৯৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া দেশে আরও ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে নয় হাজার ৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সুস্থতার হারও বেড়েছে। বিজ্ঞপ্তি বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে দুই হাজার ২১৯ জন। এ নিয়ে দেশে মোট পাঁচ লাখ ৪২ হাজার ৩৯৯ জন করোনা থেকে সুস্থ হলো।

গত ১৯ মার্চ করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে ১০.০৪ শতাংশের পজিটিভ রিপোর্ট আসে। সেদিন করোনারোধে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আমাদের ধারণা, করোনার সংক্রমণ ১৫ শতাংশের বেশি হবে না। তার আগেই এটা কমতে শুরু করবে।’কিন্তু সেই ধারণাও ফলেনি। আজ এই করোনা আক্রান্তের হার ১৯.৯০ শতাংশ। অথচ, গত ৬ ফেব্রুয়ারি দেশে করোনা শনাক্তের হার ছিল ২.৫১ শতাংশ।

বুধবারের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৪টি ল্যাবে ২৬ হাজার ৯৩১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২৬ হাজার ৬৭১টি। প্রতি ১০০ নমুনায় করোনা শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩৮ জন ও নারী ১৪ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন ছয় হাজার ৮১২ জন ও নারী দুই হাজার ২৩৪ জন। এ ছাড়া মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে আটজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আটজন ও ষাটোর্ধ্ব ৩০ জন রয়েছেন।

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৩৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের নয়জন, রাজশাহী বিভাগের তিনজন, খুলনা বিভাগের তিনজন, সিলেট বিভাগের দুজন ও রংপুর বিভাগের একজন রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন বাড়িতে ও ৫১ জন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ওই বছরের ১৮ জুন তিন হাজার ৮০৩ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে লাখ ছাড়িয়েছিল করোনার রোগী। সেদিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন। এ ছাড়া দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ১৮ মার্চ। গত বছরের ৩০ জুন একদিনে সর্বোচ্চ ৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

Hur Agency

এমন আরো সংবাদ

Back to top button