ঢাকা: সন্ধ্যা ৬:৫৬ মিনিট, বুধবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ,গ্রীষ্মকাল, ২রা রমজান, ১৪৪২ হিজরি
আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারে জোরদার হচ্ছে আন্দোলন, টুইটার সহ সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বন্ধ

মিয়ানমার অভ্যুত্থান

এএনবি নিউজএজেন্সী ডটকমআন্তর্জাতিক প্রতিবেদক, এএনবি নিউজএজেন্সী ডটকম: মিয়ানমারে জোরদার হচ্ছে আন্দোলন, টুইটার সহ সোস্যাল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী গত সোমবার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নেত্রী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পরপরই প্রথম প্রতিবাদ এসেছিল চিকিৎসাকর্মীদের কাছ থেকে। এরপর থেকে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ক্রমেই বেড়েছে। একে একে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে শিক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন যুবদল, সরকারি ও বেসরকারি খাতের বহু কর্মী। শুক্রবার সর্বশেষ আন্দোলনে সামিল হয়েছে শিক্ষকরাও। কয়েকজন প্রভাষক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করা কিংবা সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। লাল রিবন পরে, প্রতিবাদের প্রতীক হাতে নিয়ে শিক্ষক, প্রভাষকরা ইয়াঙ্গন ইউনিভার্সিটি অব এডুকেশন ক্যাম্পাস ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। প্রতীকীভাবে তারা প্রদর্শন করেন তিন আঙুলের স্যালুট।

প্রতিবাদী কণ্ঠে তাদের একজন বলেন, “আমদের নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখল করে নেওয়া এই সামরিক অভ্যুত্থান আমরা চাই না। আমরা আর তাদের সঙ্গে কাজ করব না। আমরা চাই এই সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হোক।”

শুক্রবার বিকালে ইয়াঙ্গনের ড্যাগন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেও জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছে শত শত শিক্ষক-শিক্ষার্থী। লাল রিবন পরে তিন আঙুল স্যালুট প্রদর্শন ছাড়াও কারান্তরীন নেত্রী সু চির সমর্থনে ‘সু চি মা জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয় তারা। “আমরা আমাদের প্রজন্মকে এই ধরনের সামরিক স্বৈরাচারের যাঁতাকলে ভুগতে দেব না”, বলেন এক বিক্ষোভকারী।মিয়ানমারজুড়ে বহু জায়গাতেই বিক্ষোভ হয়েছে। ইয়াঙ্গনসহ কয়েকটি নগরীর অধিবাসীরা তাদের বাড়িতে থেকে রাতেও বিক্ষোভ করেছে। মঙ্গলবার রাতে ইয়াঙ্গনে প্রথম বড় ধরনের প্রতিবাদ হয়।বিক্ষোভকারীরা ‘অমঙ্গল দূর হবে’ শ্লোগান দিয়ে রীতি অনুযায়ী হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে বিক্ষোভ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, শিক্ষক এবং সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকে হয় ছোটখাট বিক্ষোভ আয়োজন করছেন, নয়ত ধর্মঘটে নামছেন।আবার অনেকে প্রতিবাদের প্রতীকী লাল রিবন পরে কাজ করে যাচ্ছেন।শুক্রবার কয়েক ডজন অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভকারী দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দাওয়েই শহরে পদযাত্রা করেছে।মোটরবাইকে করে তাদের সঙ্গে সামিল হয়েছে আরও বহু মানুষ।

“আমরা আজ এখানে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই শুরুর ঘোষণা দিচ্ছি। আমরা জনগণকে আমাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া এবং আমাদের পাশে থাকার ডাক দিচ্ছি,” বলেন এক বিক্ষোভকারী। মিয়ানমারে ১৯৬২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সেনাবাহিনী প্রায় ৫০ বছর ধরে সরাসরি দেশ শাসন করেছে এবং বছরের পর বছর ধরে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলন কঠোরহাতে দমন করেছে।

এবারও তার অন্যথা হচ্ছে না। আন্দোলন দমনে তৎপর হয়েছে সেনাবাহিনী। ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিতে (এনএলডি) সু চির ডান হাত হিসাবে পরিচিত নেতা উইন টাইনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী কঠোর দমঅভিযানের বার্তা দিয়েছে। এর আগে ‘স্থিতিশীলতা’ নিশ্চিতের নাম করে তারা ফেইসবুকও ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

দেশটিতে ফেইসবুকের জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষণীয়; বৃহস্পতিবার এ যোগাযোগ মাধ্যমটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভ্যুত্থান বিরোধিতায় অনেক ব্যবহারকারীই টুইটার ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মকে বেছে নেন। এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ যেন আরও ছড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করতেই কর্তৃপক্ষ সেগুলো বন্ধের পথে হাঁটছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের অন্যতম ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টেলিনর টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ রাখতে নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এ সাইট দুটি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে, বলেছে টেলিনর।

দেশটিতে অভ্যুত্থানের পর তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচিত নেতাদের আটকের প্রতিবাদে তেমন কোনো কর্মসূচি দেখা না গেলেও গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন শহরে ছোটখাট বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার ইয়াংগনে জড়ো হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা দেশটির নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি ও ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের সমর্থনে স্লোগান দিয়েছেন।

সু চিকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ওয়াকিটকি আমদানি ও নেপিডোর বাড়িতে ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মিয়ানমারে ফেইসবুক বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলেও টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। যাচাই করা যায়নি এমন এক সরকারি নথিতে এই দুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘জনগণের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করছে’ এমন লেখা দেখার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এক সংবাদ মাধ্যম। নরওয়ের কোম্পানি টেলিনর মিয়ানমারে টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধের সিদ্ধান্তে ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছে। টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামের সত্ত্বাধিকারী ফেইসবুকও মিয়ানমারের সামরিক জান্তার এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে।

Hur Agency

এমন আরো সংবাদ

Back to top button