ঢাকা: দুপুর ১:৪৪ মিনিট, শনিবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ,গ্রীষ্মকাল, ৫ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি
জাতীয়বিশেষ প্রতিবেদনশিক্ষা

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আপাতত খুলছে না বলেই জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকমনিজস্ব প্রতিবেদক,এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম : করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আপাতত খুলছে না বলেই জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।অন্য সব প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও খুলে দিতে সংসদে দাবি ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সংসদে একথা জানান তিনি।

বিশেষ অধিবেশনের সমাপনী দিনে বিরোধীদলীয় উপনেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি তোলেন। তিনি বলেন, “মার্চ থেকে স্কুল-কলেজ বন্ধ। অটো পাস চালু করা হয়েছে। অফিস-আদালত বন্ধ করা হচ্ছে না। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা দেখি না।

“পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে অটোপাস মেধাবীদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। যারা ক্লাস করতে চান, তাদের জন্য খুলে দেওয়া উচিত। যারা পরীক্ষা দিতে চান তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিৎ।”

সমাপনী ভাষণে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর জবাবে ইউরোপ-আমেরিকায় স্কুল খুলে দেওয়ার পর তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হওয়ার উদাহরণ দেন।

তিনি বলেন, মাঝে দেশে সংক্রমণ কমে এলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরিকল্পনার প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন।

“কিন্ত তারপরে দেখলাম যে আবার ইউরোপে দেখা দিল। এই যে ছেলে-পেলেগুলো স্কুলে যাবে, বাচ্চারা, শিক্ষকরা বা তার গার্ডিয়ানরা, তাদের সবার যেতে হবে। এটা একটা সংক্রামক ব্যাধি, এখনও এটার চিকিৎসাই বের হয়নি।”

“সেইখানে এই ঝুঁকিটা আমরা ছেলে-মেয়েদের জন্য কেন নেব?“ পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি। আট মাস ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সমস্যাটি উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হ্যাঁ, এটা ঠিক যে স্কুলে না যেতে পেরে বাচ্চাদেরও কষ্ট হচ্ছে। “কারণ আজকাল তো সবাই সুখী পরিবার বানাতে গিয়ে হয়ত একটা বাচ্চা, দুটো বাচ্চা ঘরে এককভাবে থাকে। আগে তো একান্নবর্তী পরিবার ছিল, সবাই এক সাথে থেকে হেসেখেলে চলত। এখন তো সেই সুযোগটা কম। যেজন্য বাচ্চাদের খুবই কষ্ট। এতে কোনো সন্দেহ নাই। তারপরও তাদের তো মৃত্যুর ঝুঁকিতে আমরা ঠেলে দিতে পারি না।”

বিনা পরীক্ষায় পাসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কিন্তু আগে সেমিস্টার সিস্টেম ছিল না, আমি প্রথমবার সরকারে এসে সেমিস্টার সিস্টেম চালু করি।

“কাজেই সেখানে সারা বছর তারা যেই পরীক্ষা দিয়েছে, তারই ভিত্তিতে একটা রেজাল্ট দেওয়া। এটা কিন্তু ইংল্যান্ডেও দিয়েছে। এটা পৃথিবীর অনেক দেশেই দিয়েছে। এতে খুব বেশি একটা ক্ষতি হয় তা না।” জি এম কাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিউশন ফিতে ছাড় দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানান।

এবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “এবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো শুধু মাসিক সামান্য অর্থ দেওয়া হয়। সাধারণ প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা হয়েছে। এবতেদায়ী মাদ্রাসাকেও জাতীয়করণের আওতায় না হলেও এমপিওভুক্ত করা উচিত।”

শীতে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতির কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “এখন আবার দ্বিতীয় ওয়েভ অর্থাৎ আবার ব্যাপকভাবে সেটা ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ এবং আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায়। সে ধাক্কাটা আমাদের দেশেও আসতে শুরু করেছে।  “আমরা এখন থেকে সচেতন। হয়ত গতবার হঠাৎ করে আসাতে অনেক কাজ আমরা করতে পারিনি। কিন্তু এবার আমরা আরও বেশি প্রস্তুতি নিয়েছি।”

টিকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেই ভ্যাকসিন আবিষ্কার হচ্ছে বা যেটা নিয়ে এখনও রিসার্চ চলছে, আমরা আগাম বুকিং দিয়েছি, যাতে সেটা চালু হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমরা আনতে পারি। সেই ব্যাপারেও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেই দিক থেকে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

Hur Agency

এমন আরো সংবাদ

Back to top button