ঢাকা: সকাল ৬:২১ মিনিট, মঙ্গলবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ,গ্রীষ্মকাল, ৮ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি
জাতীয়বিশেষ প্রতিবেদন

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সবাইকে আবারোও ঘরে থাকার নির্দেশ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সবাইকে আবারোও ঘরে থাকার নির্দেশ

এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকমনিজস্ব প্রতিবেদক, এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম : দেশে মানুষ যদি এভাবে বের হয়, তাহলে কোভিড-১৯ রোগটি ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে চলমান সঙ্কটের নানা দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলার লড়াইয়ের মধ্যেও নিয়ম রক্ষার জন্য এদিন সংসদের অধিবেশন বসেছিল মাত্র দেড় ঘণ্টার জন্য, যা দেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন।

বৈশ্বিক মহামারী রূপ নেওয়া কোভিড-১৯ রোগ বাংলাদেশেও সংক্রমিত হওয়ার পর বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতোই অবরুদ্ধ অবস্থা তৈরি করা হয়, এজন্য গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে বলা হয় ঘরে থাকতে।

কোভিড-৯ রোগের কোনো ওষুধ না থাকায় বিস্তার ঠেকাতে মানুষে মানুষে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাই একমাত্র পন্থা হিসেবে এখন পুরো বিশ্বে আচরিত।

বাংলাদেশে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানাতে সারাদেশেই হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশের মানুষ সাহসী হতে গিয়ে একটু বেশি সাহসী হয়ে গেছে! তাদেরকে বারবার ঘরে থাকা অনুরোধ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিনরাত যথেষ্ট কষ্ট করছে। কিন্তু কেন যেন মানুষ এটা মানতে চায় না।

“দেখা যায় এখানে বসে আড্ডা ওখানে বসে গল্প। বলা হল ঘরে থাকেন, বউ নিয়ে শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে গেল। শিবচর থেকে টুঙ্গিপাড়া হাজির। ভাইরাস টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত পৌঁছে গেল। নারায়ণগঞ্জ থেকে চলে গেল বরগুনা।”

এই ধরনের কর্মকাণ্ড অন্যদের ঝুঁকিতে ফেলার পাশাপাশি রোগ বিস্তার রোধের কাজটি যে কঠিন করে তুলছে, তা বলেন শেখ হাসিনা।

“আমরা বারবার অনুরোধ করছি, আপনারা যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকেন। আমরা এটাকে একটা জায়গায় ধরে রাখতে পারি এবং সেখান থেকে মানুষকে যদি সুস্থ করতে পারি, তাহলে কিন্তু এটা বিস্তার লাভ করে না। সংসদে যারা এসেছে, সবাই মাস্ক পরে এসেছেন, কিন্তু বাইরে যারা আছেন এ ব্যাপারটা দেখতে হবে। কেন যেন মানুষ সেটা মানতেই চায় না।”

এই সঙ্কটে মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসেই এবাদত করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের চেষ্টা হচ্ছে মানুষের জীবনটাও যেন চলে, তারা যেন সুরক্ষিত থাকে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই নির্দেশনা মেনে চললে নিজে যেমন সুরক্ষিত থাকতে পারবেন, অপরকেও সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। কারও জীবন ঝুঁকিতে পড়বে না।

“নিয়ম না মানার কারণে সে নিজেও ঝুঁকিতে পড়বে, অন্য কয়েকজনকে অসুস্থ করে ফেলবেন। এজন্য আমি সবাইকে অনুরোধ করব নিজে সুরক্ষিত থাকুন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলুন।”

মহামারী নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর হিমশিম খাওয়ার দিকটি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “কতই না শক্তিশালী দেশ, কত তাদের শক্তিশালী অস্ত্র, কোনো কিছুই কাজে লাগল না!

“একটা ভাইরাস যেটা চোখে দেখা যায় না, তার কারণে সারা বিশ্বে স্থবির। সারা বিশ্বের মানুষ ঘরে বন্দি। ধরণীর অদ্ভুত পরিস্থিতিতে বোধহয় আর কখনও কেউ পড়েনি।”

কতদিন এই মহামারী চলবে, তা এখনও বিজ্ঞানীদেরও বলতে না পারার কথা বলেন তিনি।

“এটা নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে, চিন্তা হচ্ছে। অনেকে বলছেন শীতকালে বেশি হবে, গরমকালে বেশি থাকবে না- এখন বলা হচ্ছে গরমেও থাকবে। একটা অদ্ভুত অবস্থা সারাবিশ্বে।”

সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঝড়-ঝাপটা দুর্যোগ তো আসে, আসবেই। এ সময় হতাশ হওয়া বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সাহসের সাথে এটা মোকাবেলা করতে হবে। যে যেখানে আছি, যার যার অবস্থানে থেকে এটা মোকাবেলা করতে হবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্ব থেকে ইতিমধ্যে খাদ্য দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের উর্বর মাটি আছে, মানুষ আছে, আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা যে যা পারি তরিতরকারি হোক ছাদে হোক মাটিতে হোক উৎপাদন করতে পারি। আমরা নিজেরা চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশকে দিতে পারি।”

Hur Agency

এমন আরো সংবাদ

Back to top button