বিশেষ প্রতিবেদনরাজনীতি

মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন

এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম নিজস্ব প্রতিবেদক,এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম : বুধবার বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর ভিড় আর স্লোগানের মধ্যে গুলশানের ভাড়া বাড়ি ফিরোজায় পৌঁছান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় তার পরনে ছিল ‘ট্রেডমার্ক’ হয়ে ওঠা গোলাপী জামা, চোখে সানপ্লাস, আর মুখে মাস্ক। ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার নিজে গাড়ি চালিয়ে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেন। সেখানে ফুল দিয়ে বিএনপিনেত্রীকে স্বাগত জানান স্বজনরা।

পরে ফিরোজার সামনে নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, “ম্যাডাম অসুস্থ। তার সাথে কথা বলে আমরা তার চিকিৎসকদের সাথে আলাপ করব। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া তাকে বাসায় নিয়ে আসলাম। চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি ছিলেন খালেদা জিয়া।

প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

এমন এক সময়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হল,যখন নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীতে পুরো বিশ্বজুড়ে চলেছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা; নানা বিধিনিষেধে বাংলাদেশও রয়েছে প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায়।

বিএনপি নেতারা এতদিন খালেদার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে এলেও মহামারীর মধ্যে এমন পরিস্থিতি তার মুক্তি নিয়ে এখন তাদের মনে শঙ্কাও কাজ করছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের এই সময়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়া কিছুদিন কোয়ারেইটাইনে থাকবেন। নেতা-কর্মীদেরও তিনি কোয়ারেইটাইনে থাকতে বলেছেন।

বিএনপিনেত্রীর দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে মুক্তির আদেশের নথি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষের হাত ঘুরে বুধবার বিকাল ৩টার পর বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে পৌঁছায়।

এরপর প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল হক বলেন, “উনাকে আমরা ৩টার দিকে ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দিয়েছি। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে উনি সোয়া ৪টার দিকে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।

হাসপাতাল থেকে খালেদাকে তার গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ নিয়ে যেতে আগেই হাসপাতালের বাইরে এনে রাখা হয়েছিল গাড়ি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এবং খালেদা জিয়ার পরিবারের কয়েকজন সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।

কেবিন ব্লকে খালেদার মুক্তির অনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন একটি হুইলচেয়ার নিয়ে যাওয়া হয় ছয় তলার ৬২১ নম্বর কক্ষে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে জমায়েত না করার বিষয়ে বারবার হুঁশিয়ারির পরও বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করলে পরিস্থিতি কিছুটা বেসামাল হয়ে পড়ে।

পুলিশ ও বিএনপি মহাসচিবকে হ্যান্ডমাইকে বারবার নেতাকর্মীদের হাসপাতাল চত্বর থেকে সরে যেতে অনুরোধ জানানো হয়। বিকাল সোয়া ৪টার দিকে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে নামিয়ে আনা হলে শত শত নেতা-কর্মীর ভিড় ডিঙয়ে তাকে গাড়িতে পৌঁছে দিতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের।

এমন আরও সংবাদ

Back to top button