ঢাকা: বিকাল ৩:১৩ মিনিট, শনিবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ,গ্রীষ্মকাল, ৫ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি
জাতীয়বিশেষ প্রতিবেদন

খ্রিস্টানদের বাড়ি বাড়ি চলছে উৎসব,গির্জাগুলো সাজানো হয়েছে মনোরম সাজে

উৎসবের বড়দিন

এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকমনিজস্ব প্রতিবেদক,এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম: বুধবার বড়দিন হলেও উদযাপন শুরু হয়েছে আগের রাত থেকেই। খ্রিস্টানদের বাড়ি বাড়ি চলছে উৎসব। অভিজাত হোটেলগুলোতেও রয়েছে বিশেষ আয়োজন।

গির্জাগুলো সাজানো হয়েছে মনোরম সাজে। ক্রিসমাস ট্রি থেকে ঝুলছে আলোর মালা। বানানো হয়েছে খ্রিস্টের জন্মের ঘটনার প্রতীক গোশালা। সেই সঙ্গে বড় দিনের কেক তো আছেই।

খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারক যিশু খ্রিস্টের জন্মকাহিনি বড়দিনের উৎসবের মূলভিত্তি। ২৫ ডিসেম্বর বেথলেহেম শহরে কোনো এক আস্তাবলে কুমারী মাতা মেরির গর্ভে জন্ম দেন যিশু।

আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও বলেন, অন্যায়-অবিচার, হিংসা-দ্বেষ, নির্যাতন-নিপীড়ন, দারিদ্রতা, সন্ত্রাস ও ধর্মান্ধতায় মুক্তিকামী মানুষ যখন শৃঙ্খলাবদ্ধ, তখন তাদের কাছে যিশু খ্রিস্ট মুক্তিদাতা হয়ে আসবেন।

“যাবপাত্রে শায়িত শিশু যীশু দু হাত বাড়িয়ে আমাদের আহ্বান করেন যেন আমরা পরমেশ্বরের ভালোবাসা ও মুক্তির পরিকল্পনা গ্রহণ করি এবং তার চরণে প্রণাম জানিয়ে আত্মসমর্পন করি এবং তাকে বিশ্বাস করি যে তিনি মুক্তিদাতা। এই বিশ্বাস আমাদের মুক্তি দেবে; দয়া, ভালোবাসা ও সেবায় এ বিশ্বাস প্রকাশ পাবে।”

মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন গির্জা ও উপাসনালয়ে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বড় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবাণী পাঠের মাধ্যমে নিজের পরিশুদ্ধি এবং জগতের সব মানুষের জন্য মঙ্গল কামনা করা হয়।

বুধবার সকালে কাকরাইলের সেন্ট মেরিস ক্যাথিড্রালে হয় বড় দিনের প্রার্থনা। এছাড়া সকাল থেকেই বিভিন্ন চার্চ, বাড়ি এবং হোটেলগুলোতে চলছ নানা অনুষ্ঠান।

বিশেষ করে শিশুদের জন্য আলাদা আয়োজন করেছে হোটেলগুলো। সেখানে শিশুদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের খেলার আয়োজন। প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ‘সান্তাক্লজ’ আসবেন নানা উপহার ও চমক নিয়ে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, যিশু পথভ্রষ্ট মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আহ্বান জানিয়ে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সেবা, ক্ষমা, মমত্ববোধ, সহানুভূতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাসহ শান্তিপূর্ণ অবস্থানের শিক্ষা দিয়েছেন।

“জাতিতে জাতিতে সম্প্রীতি ও ঐক্য স্থাপনসহ অশান্ত বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যীশু খ্রিস্টের শিক্ষা ও আদর্শ খুবই প্রাসঙ্গিক বলে আমি মনে করি।”

রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ সম্প্রীতি আবহমান কালের।

“বিদ্যমান সম্প্রীতির এই সুমহান ঐতিহ্যকে আরো সুদৃঢ় করতে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে।”

বড়দিনের বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”

বাংলাদেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের ‘নিরাপদ আবাসভূমি’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার -এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে উৎসব পালন করব। আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। সকলে মিলে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। তাই এই দেশ আমাদের সকলের।”

বড়দিন উপলক্ষে বুধবার সরকারি ছুটি। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে গির্জগুলোতে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

Hur Agency

এমন আরো সংবাদ

হট নিউজটি পড়বেন?
Close
Back to top button