দেশজুড়েবিশেষ প্রতিবেদন

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ আর নেই……তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ চলে গেলেন না ফেরার দেশে

এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম নিজস্ব প্রতিবেদক, এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম : শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

যে কজন বাংলাদেশি তাদের কর্মগুণে বিশ্বজুড়ে পরিচিত, ফজলে হাসান আবেদ তাদের একজন। ১৯৭২ সালে তার হাত ধরে যাত্রা শুরু করা ব্র্যাক এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও।

ফজলে হাসান আবেদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক জানিয়েছেন।

গত ২৭ নভেম্বর ফজলে হাসান আবেদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার অসুস্থতা সম্পর্কে তখন কিছু জানাননি ব্র্যাক কর্মকর্তারা।

মৃত্যুর পর ব্র্যাকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “তিনি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত অবস্থায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।”

ফজলে হাসান আবেদের স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে এবং তিন নাতি-নাতনি রয়েছে।

ব্র্যাক কর্মকর্তারা জানান, সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ফজলে হাসান আবেদের মরদেহ রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে রাখা হবে।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে জানাজা হবে। জানাজার পর ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণকারী ফজলে হাসান আবেদের উচ্চতর পড়াশোনা হয় লন্ডনে, হিসাব বিজ্ঞানে।

৩৬ বছর বয়সে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন ফজলে হাসান আবেদ। ৬৫ বছর বয়সে নির্বাহী পরিচালকের পদ ছেড়ে চেয়ারপারসন হন তিনি। কয়েক মাস আগে তিনি চেয়ারপারসনের পদ ছেড়ে অবসরে যান।

১৯৮০ সালে ম্যাগসেসে পুরস্কার পাওয়া ফজলে হাসান আবেদ জীবনে অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার, স্পেনিশ অর্ডার অব সিভিল মেরিট, অফিসার ইন দ্য অর্ডার অফ অরেঞ্জ-নাসাউ, লিউ টলস্টয় ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড মেডেল ইত্যাদি।

২০১৪ ও ২০১৭ সালে ফরচুন ম্যাগাজিনের নির্বাচিত ৫০ বিশ্বনেতার মধ্যে ফজলে হাসান আবেদের নাম স্থান পেয়েছিল।

তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্র্যাক গ্লোবাল বোর্ডের চেয়ারপারসন আমিরা হক এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ফজলে হাসান আবেদের আত্মনিবেদন, কর্মনিষ্ঠা এবং সুদৃঢ় নৈতিক অবস্থান তাকে ব্র্যাক পরিবারের সকলের কাছে শ্রদ্ধেয় ‘আবেদ ভাই’ করে তুলেছে। মানুষকে মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি ছিল তার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ব্র্যাকের পরিচিতি যখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে তখনও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নই তার অগ্রাধিকার ছিল।

“সততা, বিনয় এবং মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত ছিলেন তিনি। তার এ সকল গুণাবলীই ব্র্যাকের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠার ভিত্তি রচনা করেছে।”

 

এমন আরও সংবাদ

Back to top button