ঢাকা: সকাল ৮:০৩ মিনিট, মঙ্গলবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ,গ্রীষ্মকাল, ৮ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি
জাতীয়

সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতেই শুদ্ধি অভিযান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বৈষম্য দূর করতেই শুদ্ধি অভিযান

এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম

নিউজ ডেস্ক, এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম: জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এভাবেই নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমাদের দলের কে, কী- সেটা আমি দেখতে চাই না। আমার আত্মীয় পরিজন- আমি দেখতে চাই না। কে কত বেশি উচ্চবিত্ত সেটা আমি দেখতে চাই না। অনিয়ম যেখানে আছে, দুর্নীতি যেখানে আছে, বা আমাদের দেশকে ফাঁকি দিয়ে যারা কিছু করতে চাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

শেখ হাসিনার কাছে ভয়েস অব আমেরিকা জানতে চেয়েছিল, দুর্নীতিবিরোধী এই অভিযানের সিদ্ধান্ত তিনি কীভাবে নিলেন। কেনইবা এই শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে হল।

উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি আমলে দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটার পাশাপাশি অস্ত্র চোরাচালান ও মুদ্রা পাচারের প্রসঙ্গ টানেন।

তিনি বলেন, “এই যে ঘটনাগুলো হচ্ছিল, আমরা কিন্তু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়ে অভিযান শুরু করলাম

এবং সন্ত্রাস আমরা দমন করলাম। এটা যে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে তা নয়, আমার সব কাজে আমি জনগণকে সম্পৃক্ত করি।

“আমি দেশবাসীকে আহ্বান করলাম এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে… আপনি অভিভাবক বলেন, বাবা-মা বলেন, শিক্ষক বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বলেন, পুলিশ, গোয়েন্দা সবাইকে এক করে বললাম, আমাদের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা আমাদের লক্ষ্য।”

জঙ্গি দমন অভিযানের পরপরই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “একটা পর্যায়ে এসে মাদক আমরা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান এখনও চলছে।

“কিন্তু সেই সাথে আমি মনে করলাম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান যদি না চলাই, আমাদের সমাজে একটা বিরাট বৈষম্য সৃষ্টি হয়ে যাবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে একজন যখন সৎভাবে জীবন যাপন করছে, আরেকজন একই কাজ করেও দুর্নীতির মাধ্যমে বিশাল অর্থের মালিক হচ্ছে। তাদের জীবনযাপনে সেই বিত্তের প্রকাশ ঘটানো হচ্ছে ‘অসুস্থভাবে’। এর প্রভাব পড়ছে ছেলেমেয়েদের ওপর।

আবার সরকার যখন ‘অক্লান্ত পরিশ্রম’ করে উন্নয়ন প্রকল্প নিচ্ছে, তার যতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে, তাতে দেশের উন্নতি হচ্ছে ঠিক। কিন্তু অসৎ ব্যক্তিদের কারণে সেখানে দুর্নীতি হলে সেই বরাদ্দ পুরোপুরি কাজে লাগছে না।

“আমার যেটা চিন্তা, আমরা যতটুকু উন্নয়নের কাজ করছি বা যতটুকু বরাদ্দ দিচ্ছি, যথাযথভাবে সেটা যদি কাজে লাগাতে পারি, আমাদের দেশ আরো উন্নতি করবে, সমাজের এই বৈষম্য দূর হবে। আমাদের বাচ্চাদের তখন লোভ-লালসার দিকে মনটা যাবে না তারা একটা আদর্শ নিয়ে বড় হবে, একটা নীতি নিয়ে বড় হবে।”

আদর্শ আর নীতি নিয়ে চলতে পারলেই সমাজ এগিয়ে যাবে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “সেই চিন্তা থেকেই কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি বললাম যে কোথায় একটা কিন্তু রয়ে গেছে। সেটা খুঁজে বের করতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চালাতে হবে, ব্যবস্থা নিতে হবে।”

Hur Agency

এমন আরো সংবাদ

Back to top button