ঢাকা: দুপুর ২:১৬ মিনিট, শনিবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ,গ্রীষ্মকাল, ৫ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি
বিশেষ প্রতিবেদনরাজনীতি

আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই রাজনৈতিক দলের বিষয়ে: রিজভী

রাজনৈতিক দলের নেই আদালতের এখতিয়ার

এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম: কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপের এখতিয়ার আদালতের নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুর কবির রিজভী।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ছাত্রদলের নতুন কমিটির কাজে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে কথা বলছিলেন রিজভী।

তিনি বলেন, “ছাত্রদল নিজেরা এখন পর্যন্ত যা কিছু করেছে, তার সবই আইনসম্মত। ছাত্রদল একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব নির্ধারণ করেছে। কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এই কমিটি। এটা রাতের আঁধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে নব্য বাকশালীদের ভোট ডাকাতি করে সরকার গঠনের মতো অবৈধ কিছু নয়।”

ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নেতা আমানউল্লাহর এক আবেদনে গত ১২ সেপ্টেম্বর সংগঠনের কাউন্সিলের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন ঢাকার জ্যেষ্ঠ চতুর্থ সহকারী জেলা জজ নুসরাত সাহারা বিথী।

তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের বাড়িতে ছাত্রদল কাউন্সিল করে, যাতে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন শ্যামল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সোমবার নতুন আবেদন নিয়ে আমানউল্লাহ ফের আদালতে গেলে একই বিচারক ছাত্রদলের নতুন কমিটির কাছে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ষষ্ঠ কাউন্সিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সাতদিনের মধ্যে বিএনপির মহাসচিবসহ দলটির ১০ নেতাকে জবাব দেওয়ার আদেশ দেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আইনের বিধানে রাজনৈতিক দল বা তাদের কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় আদালতের এখতিয়ারে পড়ে না, এমন একাধিক উচ্চ আদালতে রায় রয়েছে। আরপিও ১৯৭২ এবং দ্য পলিটিক্যাল পার্টিস অডিন্যান্স-১৯৭৮ অনুসারে বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল। এই দল বা তার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মকাণ্ডের ওপর সহকারী জজ আদালত বা নিম্ন আদালতের কোনো আদেশ জারি বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার এখতিয়ার নাই।”

তিনি বলেন, “আমরা অতীতে কখনও দেখিনি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে আদালত যুক্ত হচ্ছে বা হস্তক্ষেপ করছে। এখন আদালতকে নগ্নভাবে ছাত্রদলকে ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

“আওয়ামী লীগ এতোই বিএনপিকে ভয় পায় যে, একটা ছাত্রদলের কমিটি নিয়েও তাদের গায়ে জ্বালা ধরে গেছে। কে কমিটি করবে, কিভাবে কমিটি হল- এটা আদালতের বিষয় নয়। আদালতকে দিয়ে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের এই সংস্কৃতি দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।”

আদালতের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, “আমাদের কাছে এখনও কোনো কাগজ এসে পৌঁছায়নি। এ ব্যাপারে এখন কিছু বলতে পারব না। এখনও অফিসিয়ালি কিছু পাইনি।”

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কমিটি গঠন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বাদ দেওয়া, নতুন দুইজনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ‘পরিপন্থী ও অবৈধ’।

“অথচ এ ব্যাপারে আদালত নিশ্চুপ। আদালত একেবারে ডার্ক গ্লাস পড়ে বসে আছেন। আদালত যদি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন হত তাহলে আরপিও ভঙ্গ ও দস্যূবৃত্তিক কর্মকাণ্ড আমলে নিয়ে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিলুপ্ত করে দিত। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডকে শোকজ করত।”

রিজভী বলেন, “বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ফোর্বসে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকায় জায়গা করে

নিয়েছে বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ। তাদের বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ ৯১০ মিলিয়ন, যা বাংলাদেশি অর্থে প্রায় ৭৬৭৫ কোটি টাকা। আপনারা জানেন, এই সামিট গ্রুপের মালিক কে, ক্ষমতার সাথে তাদের সম্পর্ক কী? এটা আমার মনে হয় নাম ধরে বলার অপেক্ষা রাখে না, আপনারা নিশ্চয় জানেন। আপনারা জানেন, এরা সরকারের খুব ঘনিষ্ঠ।”

“খবর বেরিয়েছে, এদের কুইক রেন্টাল প্রকল্পের বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে মুফতে ক্যাপাসিটি চার্জ পান। কুইক রেন্টাল প্রকল্পের উদ্যোক্তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন না করে, অলস উৎপাদন ক্ষমতা থাকার কারণে ক্যাপাসিটি চার্জ পাচ্ছেন কোনো সার্ভিস দেওয়া ছাড়া, বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়া একেবারে পকেটে টাকা ভরে নিচ্ছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে দুই হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাওয়া একটা অবিশ্বাস্য লেভেলের লুটতরাজ। এভাবেই ক্ষমতাসীন দলের লোকজন বিদেশে টাকা পাচার করে দেশকে দেউলিয়া করে দিচ্ছে।”

তিনি বলেন, “দুই একজন মানে একেবারে চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের নেতা, তাদের দেখছি দুইশ কোটির টাকার মতো এফডিআর এবং অন্যান্য টাকা পয়সা। ওদের যদি দুইশ কোটি টাকার এফডিআর থাকতে পারে তাহলে এই সমস্ত (সামিট গ্রুপ) ব্যক্তিবর্গের টাকার পরিমানটা কী রকমের, কী পরিমান সরকারি স্থাপনাতে কাজ করে টাকা নিয়ে গেছেন এবং সেটাকে বাইরে বিনিয়োগ করেছেন যে, সিঙ্গাপুরে ৫০ জন ধনীর মধ্যে এদের নাম আছে।”

সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবউন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, খন্দকার আবু আশফাক, খন্দকার হেলাল উদ্দিন, মোস্তাফিজুল

করীম মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Hur Agency

এমন আরো সংবাদ

Back to top button