ঢাকা: রাত ১১:১০ মিনিট, বৃহস্পতিবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ,গ্রীষ্মকাল, ১০ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি
জাতীয়বিশেষ প্রতিবেদন

৪৯তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে জাতি, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়

৪৯তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন

এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকমনিজস্ব প্রতিবেদক, এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম: মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ৪৯তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে জাতি। বাঙালির এ ঐতিহাসিক দিনটিতে উৎসবমুখর ছিল পুরো দেশ। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের আনাচেকানাচে দিনভর ছিল নানা আয়োজন। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে সারাদিন ছিল ফুল আর জাতীয় পতাকা হাতে নানা বয়সী মানুষের ঢল। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।

শপথ নিয়েছেন দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মান্ধতামুক্ত দেশ গড়ার। স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির কার্যক্রমের সূচনা হয়। ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শুরু হয় দিবসের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা। এর পরই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রদান করে গার্ড অব অনার। পরে দলের সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে আবারও স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ, তিন বাহিনীর প্রধানরা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং আওয়ামী লীগ, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর পরই সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল ফটক। ফুল ও জাতীয় পতাকা হাতে ঢল নামে সাধারণ মানুষের। পোশাকে লাল-সবুজকে ধারণ করে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তরুণ-তরুণী, প্রবীণদের পাশাপাশি অনেক শিশুকেও দেখা যায় অভিভাবকের আঙুল ধরে বা কাঁধে চড়ে স্মৃতিসৌধে আসতে। ঘণ্টা না পেরোতেই পুষ্পাঞ্জলিতে ভরে যায় স্মৃতিসৌধের বেদি।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল নির্বাচন প্রস্তুতি কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ’৭১, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, মহিলা পরিষদ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলা একাডেমি, ঢাকা জেলা পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বীর শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানায়। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধা ও আলোচনার মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করেছে।

সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে এসে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। এ দায় এড়াতে তারা একাত্তরের গণহত্যার বিচারকে বাধা দিয়েছে। এ কারণে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে এত বিলম্ব হচ্ছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, যারা জনগণকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখছে, তারা সংবিধানবিরোধী কাজ করছে। সংবিধানে ঘোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একতাবদ্ধ হলে তবেই ষোলো আনা মুক্তি আসবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাধীনতা দিবসে দলের নেতাকর্মীদের গণতন্ত্র ‘পুনরুদ্ধার’ ও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজকে এ মহান দিনে স্বাধীনতার আদর্শ, লক্ষ্য ও চেতনা এবং গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য আমাদের শপথগ্রহণ করতে হবে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা।

এর পর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন ও খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, এনামুল হক শামীম ও মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ সুসজ্জিত করা হয় জাতীয় পতাকায়। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা।

জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এবং বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনেও স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনাসভা ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সড়কে অলঙ্করণ, আলোচনাসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে উৎসবমুখর পরিবেশে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ সংখ্যা ও নিবন্ধ প্রকাশ করে।

বিকালে বঙ্গভবনে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজনটি উৎসবমুখর মিলন মেলায় পরিণত হয়। এ ছাড়া সকালে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবছরের মতো এবারও মোহাম্মদপুরে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার ১-এ শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠান। বিকালে গণভবনে একটি স্মারক ডাকটিকিট এবং ডাক অধিদপ্তরের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

Hur Agency

এমন আরো সংবাদ

হট নিউজটি পড়বেন?
Close
Back to top button