আন্তর্জাতিকবিশেষ প্রতিবেদন

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের বরফ গলে বেরিয়ে আসছে একের পর এক মৃতদেহ

বরফ গলে বেরিয়ে আসছে একের পর এক মৃতদেহ

এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

নিউজ ডেস্ক,এএনবি নিউজএজেন্সি ডটকম: দ্রুতহারে বরফ গলে গিয়ে এ বিপুল সংখ্যক মরদেহ বের হতে দেখে যেমন উদ্বেগ বাড়ছে, তেমনি এ মৃতদেহগুলো উদ্ধার করতেও হিমশিম খাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা।

এভারেস্টে প্রথম আরোহণের চেষ্টা শুরু হওয়া থেকে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া প্রায় ৩শ’ পর্বতারোহীর সবার দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দুই-তৃতীয়াংশ মরদেহই বরফের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। সে দেহগুলোই এখন বেরিয়ে আসছে। সবচেয়ে বেশি মৃতদেহ বেরিয়ে আসছে নেপালের অংশের খুম্বু হিমবাহ গলে।এছাড়া, ‘সাউথ কোল’ এও মৃতদেহ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।

পর্বতের চীনা অংশ দিয়ে উত্তরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে পর্বতারোহীদের এ মৃতদেহগুলো। বিবিসি জানায়, পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের সর্বোচ্চ এ শৃঙ্গটি এ পর্যন্ত চার হাজার ৮০০’র বেশি পর্বতারোহী জয় করতে পেরেছেন।

কিন্তু পর্বতের বিপজ্জনক পথ অতিক্রম করতে গিয়ে মাঝপথে বা শেষপথে বহু পর্বতারোহীই প্রাণ হারান। নেপালের মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের (এনএমএ) সাবেক সভাপতি আং শেরিং শেরপা বলেছেন,“বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে হিমবাহের বরফের স্তর দ্রুত গলে যাচ্ছে।আর এতেই বছরের পর বছরধরে হিমবাহর নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহগুলো বেরিয়ে আসছে”

তিনি বলেন, “আমরা সম্প্রতি কয়েক বছরে মারা যাওয়া পর্বতারোহীদের মৃতদেহ উদ্ধার করতে পেরেছি। কিন্তু পুরোনো যে মৃতদেহগুলো বরফের নিচে চাপা পড়েছিল সেগুলো এখন বেরিয়ে আসছে।”

এভারেস্ট অভিযানের সমন্বয়ক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, তিনি নিজে সম্প্রতি কয়েক বছরে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১০ টি দেহ উদ্ধার করেছেন। এখন আরো বেশি দেহ চোখে পড়ছে।

মরদেহগুলো সরানো মোটেও সহজ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন নেপালের এক্সপেডিশন অপারেটরস এসোসিয়েশন (ইওএএন) এর কর্মকর্তারা।

বিবিসি’কে এক কর্মকর্তা বলেছেন, “গত কয়েক বছরে বেস ক্যাম্পেও মৃত পর্বতারোহীদের হাত, পা দেখা গেছে। এখন আমরা দেখছি বেস ক্যাম্পের চারপাশে বরফের স্তর নিচে নেমে গেছে। আর সে কারণে এখন দেহগুলোও দেখা যাচ্ছে।”

হিমালয়ের বেশির ভাগ অংশেই যে বহু হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং বরফের স্তর পাতলা হয়ে যাচ্ছে- এমন তথ্য উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি গবেষণায়। একের পর এক পর্বতারোহীর মৃতদেহ বেরিয়ে এসে এখন গবেষণার এ ফলকেই সত্য প্রমাণ করেছে।

এমন আরও সংবাদ

Back to top button